দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝালকাঠি সদর উপজেলার নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের চাকলার বাজার থেকে নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়নের প্রতাপ বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়কে চলমান কালভার্ট নির্মাণকাজে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন দুই ইউনিয়নের বাসিন্দারা। বিকল্প সড়কের অভাবে এই সড়ক দিয়ে চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পের আওতায় সড়কটির মধ্যে থাকা ৭টি কালভার্টের মধ্যে ইতোমধ্যে ৬টির পুরোনো কাঠামো ভেঙে পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে টেকসই বিকল্প সড়ক নির্মাণ না করেই কালভার্টগুলো ভেঙে ফেলায় স্থানীয়দের দৈনন্দিন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নামমাত্র কিছু বিকল্প পথ তৈরি করা হলেও সেগুলো ব্যবহার উপযোগী নয়। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব পথ পানির নিচে তলিয়ে যায়, ফলে হেঁটে চলাচল করাও কষ্টকর হয়ে পড়ে।
সড়কটি ব্যবহারকারি মুদি দোকানি নুরে আলম জমাদ্দার বলেন, ‘ভাঙা কালভার্টের কংক্রিট ও মাটি দিয়ে যে অস্থায়ী রাস্তা করা হয়েছে, তা ১০ মিনিটের বৃষ্টিতেই ডুবে যায়। তখন পুরোপুরি যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।’
পথচারী আইয়ুব আলী মুন্সি বলেন, ‘বিকল্প সড়ক একেবারেই অনুপযোগী। কোনো যানবাহন তো দূরের কথা, হেঁটেও ঠিকমতো যাওয়া যায় না। কয়েকদিন আগের বৃষ্টির কাদাও এখনো শুকায়নি।’
প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে দুই ইউনিয়নের সহস্রাধিক মানুষ চলাচল করেন। এছাড়া দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও এই পথ ব্যবহার করে। বর্তমানে যান চলাচল বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কাজের গতি অত্যন্ত ধীর হওয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স বরেন্য এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার সালেহ হাসান জানান, বিকল্প সড়ক নির্মাণের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ না থাকায় টেকসই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করে সড়কটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
ঝালকাঠি সদর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আবদুল্লাহ হেল বাকী বিল্লাহ বলেন, ‘কালভার্ট নির্মাণে বিকল্প সড়কের জন্য বরাদ্দ সীমিত থাকে, তাই টেকসই বিকল্প পথ তৈরি করা সম্ভব হয়নি। তবে জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত কাজ শেষের জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
কেএম/কে